কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সারের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী সার চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, বিক্ষোভের সময় তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত
গত ৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গোনাইয়ের কুটি এলাকায় সার ডিলারের দোকানের সামনে শত শত কৃষক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধান চাষের মৌসুমে সারের চাহিদা বেশি থাকলেও তাদের মাত্র ৫ থেকে ৭ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছিল। অনেকে একাধিকবার দোকানে গিয়েও প্রয়োজনীয় সার পাননি বলে জানান।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে গেলে তাকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করা হয়। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরদিন তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ির বাইরে কৃষকেরা
মামলার পর স্থানীয় অনেক কৃষক রাতে বাড়িতে থাকছেন না বলে জানিয়েছেন। কেউ কেউ দিনের বেলা জমিতে কাজ করলেও রাতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকে সার ডিলারের কাছেও যেতে ভয় পাচ্ছেন। এতে আমন ধান ও শীতকালীন সবজির জমির পরিচর্যাও ব্যাহত হচ্ছে।
গোনাইয়ের কুটি গ্রামের কৃষক সুলতান মোল্লা মামলায় আসামি হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িতে নেই বলে তার স্ত্রী শিউলি বেগম জানিয়েছেন। তার চাষ করা জমির ফসলের পরিচর্যা নিয়েও পরিবারটি উদ্বিগ্ন। আদালতের খরচ বহনের সামর্থ্য না থাকায় আগাম জামিনের ব্যবস্থাও করতে পারছেন না বলে তিনি জানান।
দুই কৃষক গ্রেপ্তার, পরে জামিন
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া আট দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আল আমিনের স্ত্রী জানান, স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে পরিবারের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে প্রতিবছরই বিরোধ তৈরি হয় এবং মামলার কারণে দরিদ্র কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার দাবি করেছেন, বিক্ষোভের সময় তার ওপর হামলা হয়েছিল এবং বিষয়টি পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলেও তিনি জানান।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন এবং যারা দোষী নন তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার ও এশিয়া পোস্টের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন।

0 Comments